YOU ARE HERE: Khola-Janala : Life Style

Home [X]


বেড়িয়ে আসুন বাঁশখালী ইকো-পার্ক

প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্যমন্ডিত উঁচু-নিচু পাহাড়, লেকের স্বচ্ছ পানি, বনাঞ্চল ও বঙ্গোপসাগরের বিতৃত তটরেখা নিয়ে গঠিত হয়েছে বাঁশখালী ইকোপার্ক।

প্রকৃতি এখানে বিছিয়ে দিয়েছে তার সৌন্দর্য্যরে ছাদর। কোলাহল মুক্ত পরিবেশে বণ্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে মাঝে কিছুক্ষণের জন্য নিজেকে হারিয়ে ফেলার অপূর্ব স্থান বাঁশখালী ইকোপার্ক।

 

এটি যেন প্রকৃতির একখন্ড স্বর্গ ভূমি। চট্টগ্রামসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার সাথে এ পার্কের যাতায়াতের জন্য উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে না উঠলেও মৌসুমের শুরুতেই পর্যটকদের ঢল নেমেছে বাঁশখালী ইকোপার্কে। এখানে মিলবে সবুজ ঘনবন আর নানারকম পশু-পাখি ও বন্য প্রাণীর রোমাঞ্চকর সব দৃশ্য। যেন সে এক রহস্যময় জগৎ।  

পার্কে এখন শোভা পাচ্ছে ৮৫ প্রজাতির পাখি, ৪৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ২৫ প্রজাতির সরীসৃপ ও ৭ প্রজাতির উভচর প্রাণী।

১৯৯৭ সালের উদ্ভিদ জরিপ মতে এখানে আরো পাওয়া যাবে ৩১০ প্রজাতির উদ্ভিদ। এর মধ্যে ১৮ প্রজাতির দীর্ঘ বৃক্ষ, ১২ প্রজাতির মাঝারি বৃক্ষ, ১৬ প্রজাতির বেতসহ অসংখ্য অর্কিড, ইপিফাইট ও ঘাস জাতীয় গাছ।

এসব ছাড়াও পার্কের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন নানা শ্রেণীর পর্যটকরা। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ইকোপার্ককে নিয়ে বিতৃত পরিকল্পনা নিলে পর্যটন কেন্দ্রটি জাতীয়ভাবে প্রতিনিধিত্বশীল হয়ে উঠতে পারবে।

পর্যটন শিল্পের বিকাশ, পরিবেশ উন্নয়ন এবং জীববৈচিত্র সংরক্ষণেও বাঁশখালী ইকোপার্ক গুরুত্ব ভূমিকা পালন করবে। এক সময় এ এলাকাটি বন ও জীবজন্তু দ্বারা পরিপূর্ণ ছিল।

  এখানকার গগনচুম্বি গর্জন, বৈলাম, তেলসুর, চাপালিশ, সিভিট, চম্পা ফুল এবং বিবিধ লতাগুল্মরাজি সমৃদ্ধ চিরসবুজ বনাঞ্চলে দেখা যেত হাতি, বাঘ, হরিণ, ভাল্লুক, বন্যশুকর, সাম্বার, চিতা বিড়াল, উদবিড়াল, শিয়াল, খেকশিয়াল বিচিত্র পাখি ও অজগরসহ অসংখ্য বন্য প্রাণী।

ক্রমবর্ধবান জনসংখ্যার চাপ, ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছাস এবং অবৈধ শিকারের ফলে এ বনাঞ্চলের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া প্রতিফলিত হয়। ফলে অনেক বন্যপ্রাণী প্রকৃতি হতে হারিয়ে যায়। সে ষাটের দশকের আগেই বাঁশখালী বনাঞ্চল হতে বিলুপ্ত হয়ে যায় রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ নানা বন্যপ্রাণী।

বিগত ২০০৩-০৪ সালে চুনতি অভয়ারণ্যের ১০০০ হেক্টর এবং জলদী বন বিটের আওতাধীন রক্ষিত বনাঞ্চলের বামের ছড়া ও ডানের ছড়া এলাকা নিয়ে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের আওতায় ইকোপার্কটি গড়ে তোলা হয়।

এ পার্কের ছোট বড় পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বয়ে চলেছে ছোট ছোট ঝর্ণাধারা। এখানাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও জীব-জন্তুর অবাধ বিচরণ অবলোকন করার জন্য পার্শ্ববর্তী এলাকা ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা পর্যটকরা ভিড় জমায়।

পাহাড়ি বনের সমৃদ্ধ সাধন এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলেও বঙ্গোপসাগরের উপকূলের বিস্তীর্ণ সমুদ্র সৈকতে ঝাউবাগানের সবুজ বেষ্টনি সৃজন কর্মসূচি চলমান প্রকল্পের আওতামুক্ত করা হয়েছে। সেখানে এখন প্রতিদিন অসংখ্য দর্শক ভিড় জমায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানালেন প্রতিদিন পার্কে কয়েক হাজার দর্শক টিকেট কেটে প্রবেশ করেন।

রোমাঞ্চিত হয় সব পশু-পাখির দৃশ্য দেখে। চিড়িয়াখানার মত কোন খাঁচা নয়, একেকটি অরণ্য এলাকাকে তৈরি করা হয়েছে পশু-পাখির অভয়াশ্রম হিসেবে। পার্কে কর্মরত কর্মকর্তারা জানালেন, সেখানে বেশকিছু বিরল প্রজাতির প্রাণী ছাড়াও মায়া হরিণ, হাতি, কালো ভাল্লুক, উড়ন্ত কাঠ বিড়ালী, বন্য শূকর, খরগোশ, বন বিড়াল, মার্বেল বিড়াল, চিতা বিড়াল, সজারু, বনগরু, প্যারা হরিণ, চিতা বিড়াল, ভুবন চিল, সাত ভাই, কালো বুলবুলি, মাথুরা, ভূতুম পেঁচা, লজ্জাবতী বানর, নেংটি ইঁদুর, লক্ষ্মী পেঁচা, ডুবুরী, ময়না, বক, সিপাহী বুলবুলি, ঈগল, হিরামনসহ প্রায় সহস্রাধিক পশুপাখি।

সে সঙ্গে রয়েছে গগনচুম্বী গর্জন, বৈলাম, তেলসুর, সিভিট, চাপালিশ, গুটগুটিয়া, চাকুয়া, শিমুল, বহেরা, বট, পিটালী, পিতরাম, ঢাকিজাম, ডুমুর, বর্তা, ধারামারা, গামারী, হারগাজা, আসাম লতা, জঙ্গী আদা, লতাবাবুল, গিলা গাছসহ নানা প্রজাতির বৃক্ষ। দর্শনার্থীরা পার্কে প্রবেশের সাথে সাথেই দেখা মিলবে জীবন্ত প্রাণীকূলের।

সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ, চিরসবুজ বনাঞ্চল ও প্রাণীকূলের এসব অপরূপ সৌন্দর্য পূর্ণমাত্রায় উপভোগ করার সুবিধার্থে দর্শনার্থীদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে দুটি সুউচ্চ পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। টাওয়ারের চূড়ায় উঠলে অনায়াসে দেখতে পাবেন কুতুবদিয়া চ্যানেল, বঙ্গোপসাগর ও চুনতি অভয়ারণ্যের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল।

লেকের অসংখ্য অতিথি ও জলজপাখি দেখার জন্য লেকে রয়েছে পেডেল বোট, সোয়ান বোট ও ইঞ্জিন বোট। এগুলোতে করে খুব সহজেই ডানের ছড়া ও বামের ছড়া লেকের মধ্যে পরিভ্রমণ করা যায়। এছাড়াও ইকোপার্কের সৌন্দর্য্য পূর্ণমাত্রায় অনুভব এবং পার্ক ও লেক পরিদর্শনের জন্য তৈরী করা হয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ ঝুলন্ত সেতু।

কিন্তু ইকোপার্কে আসা পর্যটকরা অভিযোগ করে বলেন, পার্কে নানা সুযোগ সুবিধার কথা উল্ল্যেখ থাকলেও এখানে এসে প্রতারিত হচ্ছে। ইকোপার্কের মূল আকর্ষণ স্বচ্ছ লেকের উপর নির্মিত দেশের সর্ববৃহৎ ঝুলন্ত সেতুটির মুখ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে পর্যটকরা পার্কের অনেক কিছু দেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

পার্কের পুরো এলাকাটি ঘুরেবেড়ানো যাচ্ছেনা ঝুলন্ত সেতুটি বন্ধ করে দেয়ায়। এছাড়াও পার্কের পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের পাশেই মাটি ধসে যাওয়ায় লাইনে দাড়িয়ে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে টাওয়ারে উঠতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে ইকোপার্কের কর্মকর্তা ছিদ্দিক আহমদ জানান, পার্কের ঝুলন্ত সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

এটি মেরামতের জন্য ইতিমধ্যে টেন্ডার হয়ে গেছে। আশা করি দ্রুত কাজ শেষ হবে। আর কাজ শেষ হলেই ঝুলন্ত সেতুর প্রবেশ পথ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

.... আগে যা ছিল.

নয়নাভিরাম বান্দরবান
হানিমুন ট্রাভেলস
সুন্দরের খোজেঁ সেন্টমার্টিন দ্বীপে
মনোরম অবকাশ কেন্দ্র ফয়'স লেক
চলো যাই কক্সবাজার
বেরিয়ে আসুন বাঁশখালী ইকো-পার্ক
 

 Under this category : Travel and Living : Life Style : Making Money on the NET

...

Articles are submitted to Here are licensed from various content sites
To report abuse, copyright ? issues, article removals, please contact [
webmaster@khola-janala.com]

Contact Khola-Janala