YOU ARE HERE: Khola-Janala : Life Style

Home [X]


 

গরমে খাদ্যাভাস

আজকাল আমরা মোটামুটি সবাই জানি, একটি দীর্ঘ সময়ের জন্য স্বাস্থ্যকর ত্বক পেতে হলে ত্বককে দুভাবে যত্ন নিতে হবে ১. ইন্টারনালি ২. এক্সটারনালি। ইন্টারনালি বা ভেতর থেকে যেভাবে ত্বকের যত্ন নিতে হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো খাদ্যাভাস। কিছু ত্বকবান্ধব খাদ্য নির্দেশিকা দেওয়া হলো।

পানি

সুস্থ-সুন্দর ত্বকের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পানি। এটি ত্বকের আর্দ্রতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
বিশেষ করে গ্রীষ্মের সময় ত্বকের সুস্বাস্থ্যের জন্য পানি পান করা একান্ত জরুরি। প্রতিদিন অন্তত এক-দেড় লিটার পানি পানের অভ্যাস করুন। এই অভ্যাস আপনার স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বক গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
 

প্রোটিন

প্রোটিন বা আমিষ আমাদের শরীরের জন্য খুবই জরুরি। কেননা এটি আমাদের দেহের ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুকে সারাতে অতি মাত্রায় কার্যকর। প্রোটিনের অভাবে  মাথার ত্বক শুষ্ক এবং নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে। খাদ্য তালিকায় প্রোটিনের সংযোজন একান্ত জরুরি।

বিশেষ করে যারা নির্ভেজাল নিরামিষভোজী, তারা অবশ্যই ডায়েট প্ল্যান এমনভাবে করবেন, যেন তাদের খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ সয়াবিন, পনির, খাদ্যশস্য, মটর, কলাই, মসুর, দুধ, শিম, কড়াইশুঁটি, মটরশুঁটি ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত থাকে।

বিশেষ করে দুগ্ধজাত বিভিন্ন খাবারে যে ব্যাকটেরিয়া থাকে, তা আমাদের অন্ত্রকে পরিষ্কার রাখে। ফলে আমাদের ত্বকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আভা দেখা দেয়।

কার্বোহাইড্রেটস

বাদামি চিনি এবং মধু কার্বোহাইড্রেটস বা শর্করা ও শ্বেতসার জাতীয় খাদ্যের খুবই উন্নতমানের উৎস। এই কার্বোহাইড্রেটস রক্তকে শোধন করে এবং শরীর থেকে বিভিন্ন ধরনের টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। সাদা চিনি এবং রিফাইন্ড ময়দা না খাওয়াই ভালো।

এতে কোনো স্বাস্থ্যকর ব্যাপার নেই; অথচ শুধু শুধু ক্যালরি বাড়ায়। অন্যদিকে, চিনি থেকে ত্বকের নানা রকম সমস্যা দেখা দেয় এবং ব্রণের প্রকোপ বাড়ায়। তাই সাদা চিনি না খাওয়াই শ্রেয়।

ভিটামিন : ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল দেখাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রয়োজনীয় ভিটামিন গ্রহণের বিকল্প নেই। বিশেষ করে ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’, ‘ই’ এবং ‘বি’ কমপ্লেক্স স্বাস্থ্যকর ত্বকের জন্য একান্ত জরুরি। ভিটামিন বলিরেখা এবং সূক্ষ্ম ভাঁজ পড়া থেকে ত্বককে বাঁচায়। অর্থাৎ অসময়ে ত্বতকে বুড়িয়ে যেতে দেয় না।

ফাইবার

ফাইবার অপাচ্য কার্বোহাইড্রেটকে হজম করার ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীর যেন গ্রহণ করা খাদ্য থেকে অধিকতর পুষ্টি আহরণ করতে পারে, তার বন্দোবস্ত করে।

এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অভ্যাস রপ্ত করার পরামর্শ দেওয়া হলো।

১. পানি পান করুন। পানিই তৃষ্ণা নিবারণের সর্বোত্তম পন্থা। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে ঘাম সহজে বাষ্পীভূত হয় না। ফলে আমাদের শরীর এক কার্যকর এবং মোম উপায়ে তার উষ্ণতা বা গরম কমাতে বাধাগ্রস্ত হয়। আর এ কারণেই আপনি তৃষ্ণার্ত না হলেও পানি পান করুন। আপনার কায়িক পরিশ্রমের মাত্রার ওপর নির্ভর করে পানি পানের পরিমাণ বাড়াতে পারেন।

২. ক্যাফেইনসমৃদ্ধ, কার্বোনেটেড বা অঙ্গারায়িত, অ্যালকোহলসমৃদ্ধ এবং উচ্চ চিনিযুক্ত পানীয় পান করা থেকে বিরত থাকুন। এ ধরনের পানীয়তে প্রিজারভেটিভ, কৃত্রিম রঙ এবং চিনি মিশ্রিত থাকে। এসব পানীয় এসিডিক এবং ইউরিনেট করার মাধ্যমে শরীর থেকে অতিরিক্ত তরল বের হয়ে যায়।

অনেক সফট ড্রিংকেই তরলীকৃত ফসফরিক এসিড মিশ্রিত থাকে। এই ফসফরিক এসিড দেহের ডাইজেস্টিভ ট্যাক্টের অভ্যন্তরীণ আবরণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অধিক পরিমাণে সফট ড্রিংক পান কররে রক্তে ফসফরাসের মাত্রা বেড়ে যায়।

পলে হাড়ের ক্যালসিয়াম বিচ্ছিন্ন হয়ে রক্তে মিশে যায় এবং এই বিচ্যুতির ফলে আমাদের দেহের হাড় হয়ে পড়ে সরন্ধ্র ও ভঙ্গুর। এছাড়া দাঁতে প্লাক বা দন্তমল, কিডনি বা বৃক্কে পাথর, আর্থ্রাইটিস ও হাড়ে তাড়না হতে থাকে এবং দেহে মিনারেরলের মাত্রা এমন হারেই কমে যে, শরীরে এনজাইমগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে বদহজম হয় এবং এর প্রত্য তিকর প্রবাব পড়ে আমাদের ত্বকের ওপর।

৩. খুব বেশি কনকনে ঠান্ডা পানীয় খাবেন না। এই কাঠফাটা গরমে আপনাকে কিছুক্ষণ শীতল রাখা ছাড়া এই পানীয় মূলত কোনো কাজেই আসে না। যখন খুব গরম লাগতে থাকে, তখন হিমশীতল পানীয় পান করলে ত্বকের ব্লাড ভেসেলগুলো ঈষৎ সংকুচিত হয়ে পড়তে পারে। এতে ত্বকে রক্ত প্রবাহের মাত্রা কমে গিয়ে ত্বককে প্রাণহীন এবং নির্জীব দেখায়।

৪. মাত্রাতিরিক্ত কঠিন শ্রমের কাজ করবে না।

৫. হালকা, পুষ্টিকর এবং চর্বিহীন খাবার খাবেন।

৬. গরম এবং এসিডিক শাকসবজি এবং ফলমূল খাবেন না। যদি আপনি পাকা আম খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখতে না পারেন, সারারাত পানিতে আম ভিজিয়ে রেখে সকালে খাবেন।

৭. শুকনো ফল খাওয়ার পরিমাণ কমিযে দিয়ে তাজা ফল খাবেন।

৮. আপনার পানীয়তে তুলসীর বীজ মিলিয়ে খাবেন। এতে শরীর ঠান্ডা করার চমৎকার উপাদান রয়েছে।

৯. আপনার খাদ্য তালিকায় সম্ভব হলে চিনি ছাড়া প্রচুর ফলের রস এবং সবজির সালাদ রাখবেন।

১০. ঘামের মাধ্যমে যে তরল বের হয়ে যায়, সেই শূন্যস্থান পূরণের জন্য লেবুর শরবত, ডাবের পানি এবং পাতলা ননিযুক্ত দুধ পান করুন।

১১. অতি মিষ্টি খাবার; যেমন মধু, ঝোলাগুড় ইত্যাদি এড়িয়ে ফলমূল এবং সবজিতে বিদ্যমান চিনি খেতে চেষ্টা করুন।

১২. গরম, ঝাল, মসলাযুক্ত ও অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার এবং বাড়তি লবণ খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিন। শরীর তার প্রয়োজনীয় লবণ বিভিন্ন ফল এবং শাকসবজি থেকে গ্রহণ করে।

১৩. চানাচুর, সমুচা, চিপস, শিঙ্গাড়া, চপ, পেঁয়াজ, পাপড়, পুরি, বেগুনি, নানা রকম তেলে ভাজা পিঠা ইত্যাদি খাবার ত্যাগ করুন। এ ধরনের উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবারে শরীরে তাপ বৃদ্ধি পায়।

১৪. উন্নত মানের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

.... আগে যা ছিল.

কাটিয়ে উঠুন বিষাদ
বাড়িতে ডাক্তার
হার্ট ভাল রাখতে ডায়েট
ব্যাথা ও প্রতিকার
শীতের শুরুতে ঠান্ডার প্রকোপ
বিব্রতকর পায়ের দুর্গন্ধ
ব্যায়ামে সুস্থ শরীর
বিব্রতকর পায়ের দুর্গন্ধ
কিশোরীর খাদ্য তালিকা
গরমে খাদ্যাভাস
জিম সেন্টারের ঠিকানা
 

 Under this category : Travel and Living : Life Style : Making Money on the NET

...

Articles are submitted to Here are licensed from various content sites
To report abuse, copyright ? issues, article removals, please contact [
webmaster@khola-janala.com]

Contact Khola-Janala