পাথর কি ভাগ্য বদলায় ?


অঙ্গশোভার জন্য হাতের আঙ্গুলে আংটি কিংবা সেই আংটিতে পাথর লাগিয়ে পরাটা অতি প্রাচীন একটি প্রচল। পৃথিবীর সব দেশেই এই প্রচল রয়েছে। এক্ষেত্রে এটি একটি গহনা বিশেষ।

একই ভাবে, ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আংটিতে বিভিন্ন ধরনের পাথর ব্যবহারের রীতিটিও বিশ্বজনীন। কতকাল আগে থেকে এই রীতি চলে আসছে তা বলা খুবই মুশকিল।

ভাগ্য পাথর ব্যবহার দ্বারা বদলানো যায়- এটা কেউ বলেন, নিছক কুসংস্কার। কেউ বিশ্বাস করেন- খাঁটি এবং যথাযথ পাথর ব্যবহার করলে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তিত হবেই। কেউ ভাবেন, মানবদেহের ওপর পাথরের রাসায়নিক ক্রিয়া একটা বিজ্ঞানসম্মত ব্যাপার। কেউ বা ধারণা করেন, পাথর মানুষের স্বাস্খ্যের ওপর নিশ্চিত প্রভাব ফেলে।

এই সব মত-অমতের ভিতর দিয়ে হাজার-হাজার বছর ধরে যেমন অ্যাসট্রলজি বা জোতিষশাস্ত্র এই প্রবল বিজ্ঞানের সুগেও সারা বিশ্বে চালু রয়েছে, তেমনই চালু রয়েছে পাথরের ব্যবহার।

মজার কথা, পৃথিবীর নানা দেশে বহু বিজ্ঞান-মনষ্ক মানুষ, এমনকি বিজ্ঞানীরা পর্যন্ত গ্রহের অশুভ প্রভাব কাটানোর জন্য এবং সৌভাগ্যলাভের আশায় জোতিষীর পরামর্শ অনুযায়ী আংটিতে নানা ধরনের পাথর ব্যবহার করছেন।

তাহলে এরা কি পাথার দ্বারা ভাগ্য পরিবর্তনের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি খুঁজে পেয়েছেন? সেটা জানা যেতে পারে জরিপ, গবেষণা ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে।

কিছু বছর আগে ভারতীয় তারা টিভিতে আমি একটি ইন্টারেস্টিং সাক্ষাৎকার দেখেছিলাম। তাতে কোলকাতার এক বিখ্যাত ক্যানসার বিশেষজ্ঞের সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন তারা টিভির জনৈকা প্রতিনিধি। প্রতিনিধি প্রশ্ন করলেন- স্যার, আপনি একজন বিজ্ঞানী। অথচ আপনার আঙ্গুলে বড় পাথরসহ একটি আংটি শোভা পাচ্ছে। এটা কেন পরছেন? চিকিৎসা-বিজ্ঞানীর এই কুসংস্কার কি গ্রহণযোগ্য? ক্যানসার বিশেষজ্ঞটি খুব চতুর হেসে জবাব দিলেন- অনেকেই পরে, উপকারের আশায়। তাই আমিও পরছি। উপকার যদি হয়- তো হবে। না হলেও ক্ষতি নেই। আংটির পাথরটা অন্তত দেখতে যে খুব সুন্দর- এটুকু তো আপনি মানবেন নিশ্চয়ই।- এই বলে বিজ্ঞানী মহোদয় তাঁর আংটিসমেত হাতখানা টিভি ক্যামেরার দিকে উঁচু করে তুলে ধরলেন। এই হল বৈজ্ঞানিক এবং অবৈজ্ঞানিক চিন্তার মাঝামাঝি অবস্খানের একটি নমুনা।

অ্যাস্ট্রলজির বিভিন্ন শাখার মধ্যে একটি হচ্ছে রাশিশাস্ত্র, এটা আপনারা সবাই জানেন। মূলত, রাশি বিচারের মাধ্যমেই নির্ধারণ করা হয়- কোন জাতকের জন্য কোন পাথর, এবং কত ওজনের পাথর পরা দরকার। ক্ষেত্রবিশেষে হাতের তালু বা রেখা বিচার (পামস্ট্রি) করেও পাথার দেওয়া হয়ে থাকে, বিশেষত ভারতীয় হস্তরেখা পদ্ধতিতে এর বহুল প্রয়োগ আছে। ভারতীয় ও গ্রিক- উভয় পদ্ধতিতে রাশি বিচার করে যে পাথর নির্ণয় করা হয়- তা অনেক ক্ষেত্রেই একই রকম। বেশ কিছু ক্ষেত্রে তফাতও আছে।